শ্রী: শ্রীমতে শঠকোপায় নমঃ শ্রীমতে রামানুজায় নমঃ শ্রীমদ বরবরমুিনয়ে নমঃ
কিছু সময় পরে মাতা সীতা গর্ভবতী হলেন। সেই সময় রাজ্যের এক নাগরিক বলল যে তিনি কিছু সময় রাবণের স্থানে অবস্থান করেছিলেন। এটি শুনে শ্রীরাম লক্ষ্মণের মাধ্যমে মাতা সীতাকে বনে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে বাস করতে করতে তিনি দুই সুন্দর পুত্রের জন্ম দিলেন এবং তাদের নাম রাখলেন কুশ ও লব। তারা ভালোভাবে লালিত-পালিত হলো এবং মহর্ষি বাল্মীকির কৃপায় শ্রীরামচরিত সুন্দরভাবে শিক্ষা করল ও তা মনোরম গানের রূপে গাইল। এটি শুনে শ্রীরাম তাদের নিজের সভায় আহ্বান করলেন এবং আনন্দের সঙ্গে নিজেরই কাহিনি শ্রবণ করলেন। এরপর তিনি মাতা সীতাকে নিজের সভায় আনালেন এবং অগ্নিপরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পারতন্ত্র্যম্ (সম্পূর্ণ আজ্ঞাপালন) প্রমাণ করতে বললেন। তিনি তাঁর আজ্ঞা পালন করলেন এবং এর পরে ভূমিপিরাট্টি (ভূমি দেবী) তাঁকে পৃথিবীর মধ্যে সমাহিত করে নিলেন এবং তিনি পরমপদে গমন করলেন।
এইভাবে মাতা সীতা তিনবার শ্রীরাম থেকে পৃথক হয়েছিলেন। এই বিচ্ছেদগুলির সারাংশ শ্রীপিল্লৈ লোকাচার্য স্বামীজি তাঁর উৎকৃষ্ট রচনা শ্রীবচনভূষণম্-এ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা শ্রীবরবরমুনি স্বামীজির টীকা থেকে এটি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি। প্রথম বিচ্ছেদে, নিজের দয়া প্রকাশ করার জন্য পিরাট্টি স্বয়ং লঙ্কায় গিয়েছিলেন এবং নিজেকে বন্দিনী করেছিলেন। ফলে তিনি সেই দিব্য নারীদের মুক্ত করার কারণ হয়েছিলেন, যাদের রাবণ বন্দী করে রেখেছিল। দ্বিতীয়বার, নিজের পারতন্ত্র্যমের কারণে তিনি বনে বাস করতে গিয়েছিলেন। তৃতীয়বার, নিজের অনন্যার্হ শেষত্বম্ (শুধুমাত্র ভগবানের সেবক হওয়া এবং অন্য কারও জন্য নয়)–এর কারণে তিনি শ্রীরাম থেকে পৃথক হলেন, পৃথিবীতে সমাহিত হলেন এবং পরমপদে গমন করলেন। এই তিনটি বিচ্ছেদের মাধ্যমে পিরাট্টির মহিমা সমগ্র বিশ্বের সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রীরামের দ্বারা শম্বূক নামে চতুর্থ বর্ণের এক ব্যক্তিকে বধ করার বর্ণনা সাধারণভাবে অনুচিতভাবে উপস্থাপিত করা হয়। শম্বূক নিজের আকাঙ্ক্ষার কারণে রুদ্রের পদ লাভ করতে এবং পার্বতীর সান্নিধ্যের আনন্দ ভোগ করার উদ্দেশ্যে তপস্যা করেছিল। এর ফলস্বরূপ এক বৈদিক ব্রাহ্মণের পুত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। এই কারণে শ্রীরাম শম্বূককে খুঁজে বের করলেন, তাকে বধ করলেন এবং সেই ব্রাহ্মণের পুত্রকে পুনরায় জীবন ফিরিয়ে দিলেন।
এইভাবে শ্রীরাম মোট এগারো সহস্র বছর রাজত্ব করেছিলেন। পরে তিনি প্রথমে লক্ষ্মণজিকে পরমপদে প্রেরণ করলেন এবং তার পর তিনি নিজেও পরমপদের দিকে গমন করলেন । সেই সময় তিনি অযোধ্যার সকল অধিবাসীকে নিজের সঙ্গে পরমপদে নিয়ে গেলেন। কেবল হনুমানজিই এই জগতে থেকে বললেন, “আমি শ্রীরামের এই দিব্য রূপ দর্শন করার পর ভগবানের অন্য কোনো রূপ দর্শন করব না।” শ্রীরামাবতারে হনুমানজীর ভক্তি কতটা অদ্ভুত! এই প্রকার শ্রীরাম কথা সমাপ্ত হয় ।
শ্রীশঠকোপ স্বামীজি বলেন, “কর্-পার্ ইরামপিরানৈ আল্লাল মাদ্রুম কর্-পরো” (যাঁরা শিখতে চান, তাঁরা শ্রীরামপিরান ছাড়া আর কী শিখতে পারেন?) এবং শ্রীরামের মহিমাকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেন। আণ্ডাল নাচ্চিয়ার (গোদাম্বা), যিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, তিনি স্বয়ং শ্রীরামকে “মনত্তুক্কিনিয়ান” (মনোহর) বলেন। এইভাবে, শ্রীরামাবতার আলওয়ারদের অত্যন্ত প্রিয়। আমরা ভগবানের লীলাসমূহ এবং তাঁর সারমর্মের আনন্দ কিছুটা সীমিত আকারে এখানে গ্রহণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত যেন আমরা হনুমানজির পবিত্র চরণের প্রেমময় সেবক হতে পারি, যিনি দিব্য সেবক এবং যাঁর হৃদয়ে নিরন্তর সীতাসহ শ্রীরাম বাস করেন, এবং আলওয়ার ও আচার্যদের চরণে সমর্পিত হতে পারি।
আলওয়ার এম্পেরুমানার জীয়ার তিরুভডিগলে শরণম্ জীয়ার তিরুভডিগলে শরণম্
অডিয়েন্ সপ্তর্ষি রামানুজ দাস
তথ্যসূত্র – https://granthams.koyil.org/2024/12/29/srirama-leela-conclusion-hindi/ , https://granthams.koyil.org/2024/12/02/srirama-leelas-conclusion-english/
প্রমেয় – https://koyil.org
প্রামাণ্য – http://srivaishnavagranthams.wordpress.com
প্রমথা – https://acharyas.koyil.org
শ্রী বৈষ্ণব শিক্ষা/বাল-বালিকা পোর্টাল – https://pillai.koyil.org